ইসলামে হজের নির্দেশিকা

হজ পবিত্র ঘরের উদ্দেশ্যে একটি ইবাদতপূর্ণ সফর, যেখানে আল্লাহর প্রতি আনুগত্য, যিকির, ধৈর্য ও সদাচরণ একত্র হয়। এই নির্দেশিকায় ধাপে ধাপে হজের আমল এবং সুন্নি মাযহাবগুলোর স্বীকৃত মতভেদ উল্লেখ করা হয়েছে। সফরের আগে নিজের হজের বিধান শিখুন এবং ব্যক্তিগত অবস্থার জন্য পরামর্শ নিন। وَلِلَّهِ عَلَى النَّاسِ حِجُّ الْبَيْتِ مَنِ اسْتَطَاعَ إِلَيْهِ سَبِيلًا যে ব্যক্তি সেখানে যাওয়ার সামর্থ্য রাখে তার ওপর আল্লাহর জন্য এই ঘরের হজ ফরজ। — কুরআন ৩:৯৭

হজের পাঠ দেখুন

হজের অর্থ ও গুরুত্ব

হজ হলো নির্দিষ্ট সময়ে পবিত্র ঘর ও অন্যান্য পবিত্র স্থানে নির্ধারিত আমলের মাধ্যমে আল্লাহর ইবাদত। এটি ইসলামের একটি স্তম্ভ এবং সামর্থ্যবান মুসলিমের ওপর জীবনে একবার ফরজ; এরপরের হজ নফল। সামর্থ্য ব্যক্তির অবস্থার ওপর নির্ভর করে। [১, ২]

উপরে ফিরুন

কার ওপর হজ ফরজ?

সামর্থ্যের মধ্যে স্বাস্থ্য, আর্থিক উপায়, নিরাপদ সফর ও নির্ভরশীলদের ভরণপোষণ রয়েছে; ঋণ, নিয়ম ও পরিস্থিতিও বিবেচ্য। কিছু শর্তে সুন্নি মাযহাবগুলোর মতভেদ আছে। যিনি স্থায়ীভাবে সফরে অক্ষম তিনি বদলি হজের বিধান সম্পর্কে জিজ্ঞেস করবেন। আল্লাহ কাউকে তার সাধ্যের বাইরে বোঝা দেন না। [১, ৩]

উপরে ফিরুন

নিয়ত ও প্রস্তুতি

আল্লাহর জন্য হজের নিয়ত করুন, তওবা করুন, পাওনাদারের সঙ্গে ঋণ পরিশোধ বা ব্যবস্থা করুন, আমানত ফেরত দিন এবং পরিবারের ভরণপোষণের ব্যবস্থা করুন। হালাল অর্থ ব্যবহার করুন, সফরের আগে আমলগুলো শিখুন এবং যাঁর প্রতি অন্যায় করেছেন তাঁর সঙ্গে মীমাংসার চেষ্টা করুন।

উপরে ফিরুন

সফর ও স্বাস্থ্য

অনুমতি, ভ্রমণপত্র, আবাসন, পরিবহন ও জরুরি যোগাযোগ যাচাই করুন। চিকিৎসকের দেওয়া ওষুধ, পানীয় জল ও গরম থেকে সুরক্ষার উপকরণ সঙ্গে রাখুন। অসুস্থতা, গর্ভাবস্থা, বয়স বা অন্য প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন, যাঁদের সাহায্য দরকার তাঁদের ব্যবস্থা করুন এবং ভিড় এড়িয়ে চলুন।

উপরে ফিরুন

মদিনা সফর

মসজিদে নববীতে সালাতের অনেক ফযিলত আছে, তবে মদিনা সফর হজের রুকন বা শর্ত নয়। হজের আগে বা পরে যেতে পারেন, কিংবা না গেলেও হজ হয়। অনুমোদিত স্থানে ভিড় এড়িয়ে নবী ﷺ ও তাঁর দুই সঙ্গীকে সম্মানের সঙ্গে সালাম দিন; দোয়া কেবল আল্লাহর কাছেই করুন। [৪]

উপরে ফিরুন

মদিনা থেকে মক্কা

শুধু মদিনায় প্রবেশের জন্য ইহরাম দরকার নেই। মদিনা থেকে হজ বা উমরার উদ্দেশ্যে মক্কায় গেলে যুলহুলায়ফা, যা আবয়ার আলী নামেও পরিচিত, সেখানে বা তার আগে ইহরাম গ্রহণ করুন। পোশাক আগে প্রস্তুত করুন; আমলে প্রবেশের নিয়ত করে ইহরাম গ্রহণের পর নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হয়। [৫]

উপরে ফিরুন

মীকাত ও বিমানযাত্রা

পথভেদে নির্ধারিত মীকাতগুলোর মধ্যে যুলহুলায়ফা, জুহফা, কারনুল মানাযিল, ইয়ালামলাম ও যাতু ইরক রয়েছে। হজ বা উমরার উদ্দেশ্যে যাত্রা করলে প্রযোজ্য মীকাতে পৌঁছানোর আগে বা সেখানে ইহরাম নিতে হবে। বিমানে আগে প্রস্তুতি নিন এবং মীকাতের কাছে বা তা অতিক্রমের আগে নিয়ত করুন; বিমানবন্দরকেই মীকাত ধরে নেবেন না। পথ নিশ্চিত করুন। [৫]

উপরে ফিরুন

হজের তিন পদ্ধতি

তামাত্তু: হজের মাসে উমরা করে ইহরাম থেকে মুক্ত হয়ে পরে হজের জন্য নতুন ইহরাম নেওয়া। ইফরাদ: শুধু হজের ইহরাম নেওয়া। কিরান: হজ ও উমরাকে এক ইহরামে যুক্ত করে হজের তাহাল্লুল পর্যন্ত ইহরামে থাকা। শর্ত পূরণকারী তামাত্তু বা কিরানকারীর জন্য হাদি প্রযোজ্য; ইফরাদকারীর ওপর সেই নির্দিষ্ট হাদি নেই। [৬]

উপরে ফিরুন

ইহরামের প্রস্তুতি

ইহরামের আগে গোসল ও পরিচ্ছন্নতা মুস্তাহাব। পুরুষ ইহরামে প্রবেশের আগে শরীরে সুগন্ধি ব্যবহার করতে পারেন, তবে ইহরামের কাপড়ে নয়। পুরুষ সাধারণত ইযার, চাদর ও স্যান্ডেল পরেন। নারী নির্দিষ্ট রঙের বাধ্যবাধকতা ছাড়া স্বাভাবিক শালীন পোশাকে শরীর আবৃত রাখবেন। হায়েয ও নিফাসের অবস্থায় নারীরাও ইহরামের জন্য গোসল করবেন। [৭]

উপরে ফিরুন

নিয়ত ও তালবিয়া

নির্বাচিত আমলের নিয়ত অন্তরে করুন এবং তালবিয়া পড়ুন: لَبَّيْكَ اللَّهُمَّ لَبَّيْكَ، لَبَّيْكَ لَا شَرِيكَ لَكَ لَبَّيْكَ، إِنَّ الْحَمْدَ وَالنِّعْمَةَ لَكَ وَالْمُلْكَ، لَا شَرِيكَ لَكَ। অর্থ: হে আল্লাহ, আমি আপনার ডাকে সাড়া দিচ্ছি; আপনার কোনো শরিক নেই। সব প্রশংসা, অনুগ্রহ ও রাজত্ব আপনারই। হাজি জামরায়ে আকাবায় পাথর নিক্ষেপ পর্যন্ত এবং উমরাকারী তাওয়াফ শুরু পর্যন্ত তালবিয়া পড়বেন। বাধার আশঙ্কায় শর্ত করার বিস্তারিত বিধান আছে। [৮]

উপরে ফিরুন

ইহরামের নিষেধাজ্ঞা

ইহরামে প্রবেশের পর সুগন্ধি, চুল অপসারণ বা নখ কাটা, বিবাহের আকদ, যৌনমিলন ও তার পূর্ববর্তী ঘনিষ্ঠতা, স্থলজ শিকার বা তাতে সাহায্য এবং অন্যান্য নিষিদ্ধ কাজ থেকে বিরত থাকুন। গোসল ও ইহরামের কাপড় বদলানো যায়; সুগন্ধিযুক্ত পণ্য এড়ান। নিষেধাজ্ঞা ভাঙলেই হজ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয় না: ভুল, প্রয়োজন ও ক্ষতিপূরণের বিধান ভিন্ন। [৯]

উপরে ফিরুন

পোশাকের বিধান

ইহরামে পুরুষ শরীরের গড়ন অনুযায়ী তৈরি জামা বা প্যান্টের মতো পোশাক এবং মাথায় লাগোয়া আবরণ পরবেন না; শুধু সেলাই থাকাই নিষেধের কারণ নয়, তাই বেল্ট ও ঘড়ি পরা যায়। ইহরামে নারী নিকাব ও দস্তানা পরবেন না; গায়রে মাহরাম পুরুষের সামনে প্রয়োজনে ঢিলা আবরণে মুখ ঢাকতে পারেন, যার পদ্ধতি নিয়ে স্বীকৃত সুন্নি মতভেদ আছে। [১০]

উপরে ফিরুন

আচরণ ও নিরাপত্তা

অশালীনতা, অন্যায়, ক্ষতিকর বিতর্ক, ধাক্কাধাক্কি ও পথ বন্ধ করা থেকে বিরত থাকুন। কথাবার্তা সংযত রাখুন, দুর্বল হাজিদের সাহায্য করুন এবং নিরাপত্তা নির্দেশনা মানুন। হাজরে আসওয়াদে পৌঁছাতে বা কোনো সুন্নাত পালন করতে কাউকে কষ্ট দেবেন না; ছবি তোলা বা কেনাকাটার জন্য ফরজ সালাত অবহেলা করবেন না। [১]

উপরে ফিরুন

শিকার ও ক্ষতিকর প্রাণী

ইহরাম অবস্থায় স্থলজ শিকার করা বা শিকারিকে সাহায্য করা নিষিদ্ধ। হারাম এলাকার শিকার ও উদ্ভিদেরও সুরক্ষার বিধান আছে। এ নিয়ম ক্ষতিকর প্রাণী থেকে নিজেকে রক্ষা নিষিদ্ধ করে না; হাদিসে গিরগিটি-জাতীয় ওয়াযাগের কথা আলাদাভাবে এসেছে। অপ্রয়োজনে প্রাণীর ক্ষতি করবেন না এবং বিশেষ পরিস্থিতিতে পরামর্শ নিন। [৯, ১৬]

উপরে ফিরুন

উমরা: তাওয়াফ

মক্কায় পৌঁছে হাজরে আসওয়াদের সমান্তরাল স্থান থেকে শুরু করে কাবা বাম দিকে রেখে সাত চক্কর তাওয়াফ করুন। কাছে যাওয়া কঠিন হলে ধাক্কাধাক্কি না করে ইশারা করুন। হিজরকে তাওয়াফের পথের ভেতরে রাখুন। প্রতিটি চক্করের জন্য নির্দিষ্ট কোনো দোয়া বাধ্যতামূলক নয়। সম্ভব হলে তাওয়াফের পর দুই রাকাত সালাত পড়ুন। [৮]

উপরে ফিরুন

তাওয়াফে পবিত্রতা ও আদব

নবী ﷺ-এর অনুসরণ ও সতর্কতার জন্য তাওয়াফের আগে অজু করুন এবং নাপাকি দূর করুন; অজু শর্ত কি না তা নিয়ে সুন্নি মাযহাবগুলোর মতভেদ আছে। হায়েযের নারী পবিত্র হয়ে গোসলের পর তাওয়াফ করবেন। হাজরে আসওয়াদ চুম্বন বা কোনো কোণ স্পর্শের জন্য ধাক্কা দেবেন না এবং কাবার অংশ স্পর্শ করাকে বাধ্যতামূলক মনে করবেন না।

উপরে ফিরুন

উমরা: সাঈ ও ইহরাম থেকে মুক্তি

সাফা ও মারওয়ার মধ্যে সাতবার চলুন: সাফা থেকে মারওয়া একবার, ফেরত আসা আরেকবার; শেষ হবে মারওয়ায়। এরপর পুরুষ মাথার চুল মুণ্ডন বা ছোট করবেন; নারী চুলের প্রান্ত কাটবেন, মুণ্ডন করবেন না। তামাত্তু পালনকারী উমরার পর ইহরাম থেকে মুক্ত হয়ে হজের ইহরাম পর্যন্ত থাকবেন। কিরান বা ইফরাদকারী নিজ আমলের বিধান অনুযায়ী ইহরামে থাকবেন। [৮]

উপরে ফিরুন

৮ যিলহজ: মিনা

আট তারিখে তামাত্তু পালনকারী মক্কায় নিজের অবস্থানস্থল থেকে হজের ইহরাম নিয়ে তালবিয়া পড়বেন। সম্ভব হলে হাজিরা মিনায় গিয়ে নবী ﷺ-এর অনুসরণে যোহর, আসর, মাগরিব, ইশা ও ফজর নিজ নিজ সময়ে পড়বেন এবং সফরকারী হিসেবে চার রাকাতের সালাত কসর করবেন। এই মুস্তাহাব অবস্থান না হলে হজ বাতিল হয় না। [৮]

উপরে ফিরুন

৯ যিলহজ: আরাফাত

সূর্য ওঠার পর আরাফাতে যান এবং উরানা উপত্যকায় নয়, আরাফাতের সীমানার ভেতরে আছেন কি না নিশ্চিত করুন। সম্ভব হলে যোহর ও আসর কসর করে একত্রে আগেভাগে পড়ুন, তারপর সূর্যাস্ত পর্যন্ত কিবলামুখী হয়ে যিকির ও দোয়া করুন। আরাফাতে অবস্থান হজের অপরিহার্য অংশ; পাহাড়ে ওঠা জরুরি নয়। সাধারণত নয় তারিখ মধ্যাহ্নের পর থেকে কুরবানির দিনের ফজর পর্যন্ত অবস্থানের সময় থাকে; শুরুর সময় নিয়ে মাযহাবের মতভেদ আছে। দিনে অবস্থান করলে সক্ষম হলে সূর্যাস্ত পর্যন্ত থাকুন। ফজর পর্যন্ত অবস্থান করতে না পারলে ইহরাম থেকে মুক্তি ও হজের কাযার বিধান অবিলম্বে জিজ্ঞেস করুন। [৮]

উপরে ফিরুন

মুযদালিফায় রাত

সূর্যাস্তের পর শান্তভাবে মুযদালিফায় যান, সেখানে মাগরিব ও ইশা একত্রে পড়ুন এবং সামর্থ্য ও ব্যবস্থা অনুযায়ী রাত কাটান। দুর্বল ব্যক্তি ও তাঁদের সঙ্গীদের রাতে আগে যাওয়ার অনুমতি আছে। ন্যূনতম অবস্থান ও বৈধ ওজরের বিষয়ে মাযহাবগুলোর মতভেদ রয়েছে। ফজরের পর আলো ফুটে ওঠা পর্যন্ত আল্লাহর যিকির করে সূর্যোদয়ের আগে মিনার দিকে যান। [৮]

উপরে ফিরুন

১০ যিলহজ: বড় জামরা

কুরবানির দিনে জামরায়ে আকাবায় সাতটি ছোট পাথর একটি করে নিক্ষেপ করুন এবং প্রতিবার الله أكبر বলুন। নির্দিষ্ট পাত্র লক্ষ্য করুন, মানুষ বা স্তম্ভ নয়। পাথর ধোয়া বাধ্যতামূলক নয়। নিরাপদ সময় ও ভিড় নিয়ন্ত্রণের নির্দেশনা মেনে চলুন। [৮]

উপরে ফিরুন

হাদি ও ক্ষতিপূরণ

শর্ত পূরণকারী তামাত্তু বা কিরানকারীর ওপর পশু হাদি দেওয়া বাধ্যতামূলক। তা না পেলে কুরআনে হজের সময় তিন দিন ও ফেরার পর সাত দিন রোজার বিধান আছে। সব হাজির একই হাদি বাধ্যতামূলক নয়; ফরজ হাদি নিষেধ ভাঙার ক্ষতিপূরণ থেকে ভিন্ন। বিশ্বস্ত অনুমোদিত সংস্থাকে সঠিক সময় ও স্থানে জবাইয়ের দায়িত্ব দেওয়া যায়। [৬]

উপরে ফিরুন

চুল কাটা ও প্রথম তাহাল্লুল

পাথর নিক্ষেপ ও প্রযোজ্য হাদি দেওয়ার পর পুরুষ চুল মুণ্ডন বা ছোট করবেন; মুণ্ডন উত্তম। নারী চুলের প্রান্ত কাটবেন, মুণ্ডন করবেন না। অনুসৃত মাযহাবে প্রয়োজনীয় আমলগুলো সম্পন্ন হলে প্রথম তাহাল্লুল হয়; তখন অধিকাংশ নিষেধ উঠে যায়, তবে পূর্ণ তাহাল্লুল পর্যন্ত যৌনমিলন নিষিদ্ধ থাকে। প্রয়োজনীয় আমল ও ক্রম মাযহাবভেদে ভিন্ন। [৮, ১১]

উপরে ফিরুন

তাওয়াফে ইফাদা ও সাঈ

মক্কায় গিয়ে তাওয়াফে ইফাদা করুন; এটি অপরিহার্য আমল। প্রয়োজন হলে হজের সাঈ করুন, তামাত্তু পালনকারীর জন্যও তা প্রযোজ্য। ইফরাদ ও কিরানের ক্ষেত্রে আগমনী তাওয়াফের পর সাঈ করা হয়ে থাকলে বিধান ভিন্ন। পূর্ণ তাহাল্লুলের প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন হলে বাকি নিষেধ উঠে যায়। সুন্নাহতে অনুমোদিত কুরবানির দিনের কিছু কাজের ক্রম আগে-পরে করা যায়। [৮, ১১]

উপরে ফিরুন

তাশরিকের দিনগুলো

প্রযোজ্য রাতগুলোতে বাধ্যবাধকতা, সামর্থ্য ও বৈধ ওজর অনুযায়ী মিনায় থাকুন। প্রতিদিন মধ্যাহ্নের পর ক্রমানুসারে ছোট, মধ্যম ও বড়—তিন জামরায় প্রতিটিতে পৃথক সাতটি পাথর নিক্ষেপ করুন এবং الله أكبر বলুন। প্রথম ও দ্বিতীয় জামরার পর ভিড় থেকে দূরে দোয়া করুন; শেষটির পর থামবেন না। সময় ও ব্যতিক্রমের বিস্তারিত বিধান আছে। [১২]

উপরে ফিরুন

আগে যাওয়া বা থেকে যাওয়া

প্রযোজ্য শর্তে বারো তারিখে পাথর নিক্ষেপের পর সূর্যাস্তের আগে মিনা ছেড়ে আগেভাগে যাওয়া যায়। তেরো তারিখে পাথর নিক্ষেপ পর্যন্ত থাকা অনুমোদিত এবং সামর্থ্যবান ব্যক্তির জন্য উত্তম। অনিচ্ছাকৃত বিলম্ব, ভিড় বা অন্য ওজরের বিস্তারিত বিধান আছে; নিজেকে বা অন্যকে বিপদে ফেলবেন না। [১৩]

উপরে ফিরুন

বিদায়ী তাওয়াফ ও প্রস্থান

হজের পর মক্কা ছাড়ার আগে বিদায়ী তাওয়াফকে কাবায় শেষ আমল করুন। তাওয়াফে ইফাদা সম্পন্ন হওয়ার পর হায়েয বা নিফাসের নারী বিদায়ী তাওয়াফ থেকে অব্যাহতি পান। এতে তাওয়াফে ইফাদার আবশ্যকতা উঠে যায় না; তা বাকি থাকলে পরামর্শ নিন। অপ্রয়োজনীয় বিলম্ব ছাড়া রওনা হয়ে মদিনা যেতে বা বাড়ি ফিরতে পারেন। [১৪]

উপরে ফিরুন

হায়েয ও নিফাস

হায়েয বা নিফাসের নারী ইহরাম, আরাফাতে অবস্থান, যিকির ও অন্যান্য আমল করতে পারেন, তবে পবিত্র হয়ে গোসলের আগে তাওয়াফ করবেন না। আরাফাত ছুটে যাওয়া বা সফরের বাধ্যবাধকতা থাকলে নিজে নিজে ইহরাম শেষ হয়েছে ধরে নেবেন না; আমল, প্রয়োজন ও স্বীকৃত মতভেদ সম্পর্কে ব্যক্তিগত পরামর্শ নিন। সাঈয়ের বিধান আগের তাওয়াফের সঙ্গে সম্পর্কিত। [১৫]

উপরে ফিরুন

অসুস্থতা ও সহায়তা

প্রয়োজন হলে বৈধ ছাড়, চলাচলের সহায়ক উপকরণ বা সঙ্গী ব্যবহার করুন এবং চিকিৎসা ও নিরাপত্তার নির্দেশ মানুন। বৈধ ওজর থাকলে পাথর নিক্ষেপে সাহায্য, প্রতিনিধি বা রাত কাটানোর বিষয়ে বিশেষ বিধান থাকতে পারে; প্রয়োগ ভিন্ন হয়। শুধু সুবিধার জন্য সক্ষম ব্যক্তি প্রতিনিধি দিতে পারবেন ধরে নেবেন না। আগে সাহায্য নিন এবং জরুরি চিকিৎসা বিলম্ব করবেন না।

উপরে ফিরুন

অপরিহার্য আমল ও ভুল

মাযহাবগুলো রুকন, ওয়াজিব ও মুস্তাহাব আমলের পার্থক্য করে, তবে কিছু বিস্তারিত শ্রেণিবিন্যাসে মতভেদ আছে। আরাফাতে অবস্থান ও তাওয়াফে ইফাদা মৌলিক আমল, আর ইহরামের মাধ্যমে আমলে প্রবেশ করা হয়; সাঈ ও চুল কাটার মর্যাদা ও বিস্তারিত মাযহাবভেদে ভিন্ন। প্রতিটি ভুলে হজ বাতিল বা কুরবানি জরুরি ধরে নেবেন না। প্রস্থানের আগে জ্ঞানী শিক্ষকের পরামর্শ নিন।

উপরে ফিরুন

হজের পর

আল্লাহর প্রশংসা করুন এবং ইবাদত কবুলের দোয়া করুন। সালাত, তওবা, সদাচরণ, অন্যের অধিকার আদায় ও দান অব্যাহত রাখুন। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বিদায়ী তাওয়াফসহ আমল ও সফরের ব্যবস্থা শেষ হলে হাজি ফিরতে পারেন; অতিরিক্ত নির্দিষ্ট কয়েক দিন থাকা বাধ্যতামূলক নয়। উপাধি বা বাহ্যিক রূপ কবুল হওয়ার প্রমাণ নয়।

উপরে ফিরুন

সংক্ষিপ্ত যাচাই তালিকা

১. প্রস্তুতি নিন এবং সামর্থ্য ও অনুমতি যাচাই করুন। ২. আমলের পদ্ধতি বেছে মীকাতে ইহরাম নিন। ৩. তামাত্তুর ক্ষেত্রে উমরা সম্পন্ন করে ইহরাম থেকে মুক্ত হন। ৪. আট তারিখে হজের ইহরাম নিয়ে মিনায় যান। ৫. নয় তারিখে আরাফাতে অবস্থান করে মুযদালিফায় রাত কাটান। ৬. দশ তারিখে বড় জামরায় পাথর নিক্ষেপ, প্রযোজ্য হাদি, চুল কাটা, তাওয়াফে ইফাদা ও প্রয়োজনীয় সাঈ করুন। ৭. তাশরিকের দিনগুলোতে তিন জামরায় পাথর নিক্ষেপ করুন। ৮. ওজর না থাকলে মক্কা ছাড়ার আগে বিদায়ী তাওয়াফ করুন। ক্রম ও ব্যতিক্রম জ্ঞানী শিক্ষকের কাছে যাচাই করুন।

উপরে ফিরুন

উৎস

[১] কুরআন: আলে ইমরান ৩:৯৭; আল-বাকারা ২:১৯৭, ২:২৮৬। [২] সহিহ আল-বুখারি ৮; সহিহ মুসলিম ১৬। [৩] সহিহ আল-বুখারি ১৫১৩, ১৮৫২। [৪] সহিহ আল-বুখারি ১১৮৯, ১১৯০; সহিহ মুসলিম ১৩৯৭। [৫] সহিহ আল-বুখারি ১৫২৬; সহিহ মুসলিম ১১৮১। [৬] কুরআন: আল-বাকারা ২:১৯৬; সহিহ মুসলিম ১২২৭। [৭] সহিহ মুসলিম ১২১৮a; সহিহ আল-বুখারি ১৫৩৯। [৮] সহিহ মুসলিম ১২১৮a; সহিহ আল-বুখারি ১৬৪৬। [৯] কুরআন: আল-বাকারা ২:১৯৬–১৯৭ ও আল-মায়িদা ৫:৯৫; সহিহ আল-বুখারি ১৮১৪। [১০] সহিহ আল-বুখারি ১৫৪২, ১৮৩৮। [১১] সহিহ আল-বুখারি ১৭৩৬; সহিহ মুসলিম ১৩০৬। [১২] সহিহ আল-বুখারি ১৭৫১, ১৭৫৩। [১৩] কুরআন: আল-বাকারা ২:২০৩। [১৪] সহিহ আল-বুখারি ১৭৫৫, ১৭৬০। [১৫] সহিহ আল-বুখারি ৩০৫; সহিহ মুসলিম ১২১১। [১৬] সহিহ আল-বুখারি ১৮২৯; সহিহ মুসলিম ২২৩৮। সংস্করণভেদে হাদিসের নম্বর ভিন্ন হতে পারে।

উপরে ফিরুন